গোয়াংজু গণঅভ্যুত্থান: যে ৫টি জরুরি তথ্য আপনার জানা প্রয়োজন

webmaster

광주 민주화 운동 - **Prompt 1: Student Protest for Democracy**
    "A historical scene depicting young South Korean uni...

বন্ধুরা, কেমন আছেন সবাই? আমাদের এই ব্লগে আপনারা সবসময়ই নতুন নতুন তথ্য আর দারুণ সব টিপস খুঁজে পান। আজ আমি আপনাদের এমন এক ঐতিহাসিক ঘটনার কথা বলতে এসেছি, যা শুধু দক্ষিণ কোরিয়ার নয়, বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্রকামী মানুষের মনে আজও গভীর দাগ কেটে আছে। একটা দেশের তরুণ প্রজন্ম আর সাধারণ মানুষেরা কীভাবে গণতন্ত্রের জন্য নিজেদের জীবন বাজি রেখেছিল, সেই সাহসী অধ্যায়টিই আজ আমরা একটু ছুঁয়ে দেখব। যখন আমরা চারপাশে গণতন্ত্র, স্বাধীনতা আর ন্যায়বিচারের কথা শুনি, তখন গওয়াংজু গণঅভ্যুত্থানের (Gwangju Uprising) মতো ঘটনাগুলো আমাদের এক অন্যরকম অনুপ্রেরণা যোগায়। ১৯৮০ সালের মে মাসে দক্ষিণ কোরিয়ার গওয়াংজু শহরে সাধারণ মানুষের আত্মত্যাগ আর সামরিক স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে তাদের অদম্য সংগ্রাম আধুনিক বিশ্বের গণতন্ত্রের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। এই ঘটনা আমাদের শিখিয়ে যায় যে, জনগণের সম্মিলিত শক্তি কতটা প্রবল হতে পারে, আর গণতন্ত্রের জন্য লড়াইয়ে ঐক্যবদ্ধতার কোনো বিকল্প নেই। এই অভ্যুত্থান শুধু দক্ষিণ কোরিয়াতেই নয়, পুরো পূর্ব এশিয়ার রাজনীতিতেও ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল এবং বিভিন্ন দেশে সামরিক স্বৈরাচারদের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের উৎসাহিত করেছিল। এমনকি সাম্প্রতিক সময়েও বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে এর প্রভাব দেখা যায়। আমার নিজের মনে হয়, এই ধরনের ঘটনাগুলো বারবার মনে করিয়ে দেয় যে স্বাধীনতা কোনো সহজে পাওয়া জিনিস নয়, এর জন্য অনেক ত্যাগ ও সংগ্রাম করতে হয়। এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট আমাদের বর্তমান সমাজ এবং আগামী দিনের জন্য কী বার্তা নিয়ে আসে, তা ভালোভাবে জানা খুব দরকার।চলুন তাহলে, নিচে বিস্তারিতভাবে জেনে নেওয়া যাক এই অসাধারণ ইতিহাস সম্পর্কে!

গণতন্ত্রের আকাঙ্ক্ষা ও স্বৈরাচারের পতন

광주 민주화 운동 - **Prompt 1: Student Protest for Democracy**
    "A historical scene depicting young South Korean uni...

পটভূমি: পার্ক চুং-হির দীর্ঘ শাসন

১৯৭৯ সালের ২৬শে অক্টোবর দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রপতি পার্ক চুং-হি আততায়ীর হাতে নিহত হওয়ার পর দেশটি এক চরম রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যায়। প্রায় ১৮ বছরের দীর্ঘ সামরিক শাসনের অবসান হওয়ায় সাধারণ মানুষের মনে গণতন্ত্র ফিরে আসার এক নতুন আশা জেগেছিল। এই সময়টায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে রাজনৈতিক আলোচনা ও প্রতিবাদের ঢেউ দেখা যায়। ছাত্রছাত্রীরা এবং বিভিন্ন গণতন্ত্রপন্থী দলগুলো সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, সামরিক আইনের অবসান এবং একটি স্বচ্ছ নির্বাচন পদ্ধতির দাবি জানাতে শুরু করে। সিউলে প্রায় এক লাখ শিক্ষার্থী পদযাত্রা করে তাদের দাবি তোলে। ভাবুন তো, কত বড় একটা পরিবর্তন!

এত বছর ধরে দমিয়ে রাখা কণ্ঠগুলো হঠাৎ করে যেন মুক্তির স্বাদ পাচ্ছিল। কিন্তু এই আশার আলো বেশিদিন স্থায়ী হয়নি, কারণ দেশের ক্ষমতা আবারও সামরিক বাহিনীর হাতে চলে যাওয়ার একটা আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।

চুন দু-হোয়ানের ক্ষমতা দখল

১৯৭৯ সালের ডিসেম্বরে জেনারেল চুন দু-হোয়ান একটি সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেন এবং সারা দেশে সামরিক আইন জারি করেন। এই ঘটনা গণতন্ত্রের পথে এক বিরাট আঘাত ছিল। তিনি শুধু ক্ষমতা দখল করেই ক্ষান্ত হননি, সমস্ত রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতাদের বাড়িতে বাড়িতে পুলিশ পাঠিয়ে তাদের সতর্ক করে দেন। গওয়াংজু শহরের চোন্নাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতারাও তার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছিলেন। আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি, যখন কোনো দেশে গণতন্ত্রের আলো জ্বলে উঠতে শুরু করে, তখন স্বৈরাচারী শক্তিগুলো সবচেয়ে বেশি ভয় পায়। চুন দু-হোয়ানের এই পদক্ষেপ ছিল সেই ভয়েরই বহিঃপ্রকাশ। পুরো দেশ জুড়ে তখন এক চাপা আতঙ্ক, সবাই যেন ভয়ে গুটিয়ে গিয়েছিল, কিন্তু গওয়াংজুর মানুষেরা হার মানতে রাজি ছিল না।

গওয়াংজুর গর্জন: প্রতিরোধের আগুন

ছাত্রদের প্রতিবাদ ও সামরিক বাহিনীর বর্বরতা

১৯৮০ সালের ১৮ই মে, গওয়াংজুর চোন্নাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা গণতন্ত্রের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করে। জেনারেল চুন দু-হোয়ান এই বিক্ষোভ দমনের জন্য সামরিক বাহিনীকে পাঠান। সামরিক বাহিনী এতটাই নিষ্ঠুর ছিল যে, তারা নিরস্ত্র ছাত্রদের উপর নির্বিচারে গুলি চালায় এবং পাশবিকভাবে নির্যাতন করে। ভাবতে গেলে আমার শরীর শিউরে ওঠে, কীভাবে একজন মানুষ অন্য একজন মানুষকে এভাবে মারতে পারে, শুধু তাদের মৌলিক অধিকার চাওয়ার অপরাধে!

বহু ছাত্রকে বিনা প্ররোচনায় আটক করা হয়, তাদের উপর অকথ্য অত্যাচার চালানো হয়। এই ঘটনার খবর দ্রুত গওয়াংজু শহরজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে, এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও প্রতিবাদের আগুন জ্বলে ওঠে। আমার মনে হয়, কোনো অন্যায় যখন সীমা অতিক্রম করে, তখন মানুষের প্রতিরোধ করার শক্তিটাও অনেক বেড়ে যায়।

Advertisement

জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিরোধ

ছাত্রদের উপর সামরিক বাহিনীর বর্বরতা দেখে গওয়াংজুর সাধারণ জনতা চুপ করে বসে থাকতে পারেনি। তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রতিরোধ আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ে। শ্রমিক, কৃষক, ব্যবসায়ী – সব স্তরের মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। তারা স্থানীয় অস্ত্রাগার এবং পুলিশ স্টেশন লুট করে অস্ত্র হাতে তুলে নেয় নিজেদের এবং তাদের প্রিয়জনদের রক্ষা করার জন্য। এটা ছিল এক অনন্য সাধারণ ঘটনা, যেখানে সাধারণ নাগরিকরা সামরিক স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে নেমেছিল। এই সময়ে গওয়াংজুর মানুষ নিজেদের একটি ‘নাগরিক মিলিশিয়া’ গঠন করে, যা শহরকে সামরিক বাহিনীর হাত থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করে। এই সময়টা ছিল গওয়াংজুর মানুষের চরম আত্মত্যাগ আর অদম্য সাহসের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। আমি যখন এই গল্প শুনি, তখন মনে হয়, মানুষের সম্মিলিত শক্তি আসলে কতটা প্রবল হতে পারে, যা বন্দুকের গুলির থেকেও শক্তিশালী।

জনগণের আত্মরক্ষা ও সামরিক দমন

নাগরিক কমিটির গঠন ও স্বশাসন

সামরিক বাহিনীর প্রাথমিক আক্রমণের পর, গওয়াংজুর জনগণ সামরিক বাহিনীকে শহর থেকে হটিয়ে দিতে সক্ষম হয় এবং কিছুদিনের জন্য শহরের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয়। এই সময় তারা একটি ‘নাগরিক নিষ্পত্তি কমিটি’ গঠন করে, যা শহরের প্রশাসনিক কাজ পরিচালনা করে। এই কমিটি খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা, আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করার মতো কাজগুলো অত্যন্ত দক্ষতার সাথে পরিচালনা করে। এটা ছিল গণতন্ত্রের এক অন্যরকম পরীক্ষা, যেখানে সাধারণ মানুষ প্রমাণ করেছিল যে তারা নিজেদের শাসন করতে সক্ষম। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, এটাই সত্যিকারের গণতন্ত্রের ছবি, যেখানে জনগণই ক্ষমতার উৎস এবং নিজেদের ভাগ্য নিজেদের হাতে তুলে নিতে পারে। এই কমিটি সামরিক কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনার মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানের চেষ্টা করেছিল, কিন্তু তাদের চেষ্টা সফল হয়নি।

চূড়ান্ত সামরিক অভিযান

গওয়াংজুর জনগণের স্বশাসন সামরিক কর্তৃপক্ষের কাছে একেবারেই গ্রহণযোগ্য ছিল না। ২৬শে মে সামরিক বাহিনী শহরে পুনরায় আক্রমণের জন্য প্রস্তুত হতে শুরু করে। ২৭শে মে ভোরে সামরিক বাহিনী ট্যাঙ্ক এবং সাঁজোয়া গাড়ির বহর নিয়ে শহরে প্রবেশ করে এবং চূড়ান্ত দমন অভিযান শুরু করে। এই অভিযান ছিল অত্যন্ত নৃশংস এবং অমানবিক। মাত্র ৯০ মিনিটের মধ্যে সামরিক বাহিনী সশস্ত্র নাগরিকদের দমন করে ফেলে। শত শত নিরীহ মানুষ প্রাণ হারায়, অনেকে আহত হয় এবং বহু মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই দিনটিকে গওয়াংজুর ইতিহাসে এক কালো দিন হিসেবে স্মরণ করা হয়। এই ঘটনা মনে করিয়ে দেয় যে, স্বৈরাচারী শাসকরা ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য কতটা নির্মম হতে পারে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও নীরবতা

বিশ্ব মঞ্চে সীমিত প্রভাব

গওয়াংজু গণঅভ্যুত্থানের সময়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় থেকে যে ধরনের জোরালো প্রতিক্রিয়া আশা করা হয়েছিল, তা পাওয়া যায়নি। যদিও কিছু আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এই ঘটনার খবর প্রকাশ করেছিল, কিন্তু বিশ্বজুড়ে সামরিক স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে খুব বেশি চাপ সৃষ্টি হয়নি। অনেক দেশ, বিশেষ করে পশ্চিমা দেশগুলো, ঠান্ডা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক সরকারের প্রতি নীরব সমর্থন বজায় রেখেছিল। তাদের কাছে তখন কোরিয়া উপদ্বীপে স্থিতিশীলতা রক্ষা করা গণতন্ত্রের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছিল। আমি যখন এই বিষয়টা ভাবি, তখন মনে হয়, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে মানবিক মূল্যবোধ অনেক সময় স্বার্থের বেড়াজালে আটকা পড়ে যায়।

গণতান্ত্রিক বিশ্বের দায়িত্ব

광주 민주화 운동 - **Prompt 2: Citizen's United Resistance**
    "A powerful and symbolic image of Gwangju citizens for...
গণতন্ত্রপন্থী হিসেবে আমাদের সকলেরই দায়িত্ব আছে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে হওয়া এমন অমানবিক ঘটনার নিন্দা জানানো। গওয়াংজু অভ্যুত্থানের ঘটনা আমাদের শেখায় যে, স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আন্তর্জাতিক সমর্থন কতটা জরুরি। সে সময় যদি বিশ্ব নেতৃবৃন্দ আরও জোরালোভাবে এই ঘটনার নিন্দা জানাতেন, তাহলে হয়তো ক্ষতির পরিমাণ কিছুটা কমানো যেত। এই ঘটনা শুধু দক্ষিণ কোরিয়ার অভ্যন্তরীণ বিষয় ছিল না, এটি ছিল বিশ্বব্যাপী গণতন্ত্র এবং মানবাধিকারের উপর এক আঘাত।

ঘটনার তারিখ গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা সংক্ষিপ্ত বিবরণ
১৯৭৯ সালের ২৬শে অক্টোবর পার্ক চুং-হির হত্যাকাণ্ড ১৮ বছরের সামরিক শাসনের অবসান, নতুন রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা।
১৯৭৯ সালের ১২ই ডিসেম্বর চুন দু-হোয়ানের সামরিক অভ্যুত্থান জেনারেল চুন দু-হোয়ান ক্ষমতা দখল করেন, দেশজুড়ে সামরিক আইন জারি।
১৯৮০ সালের ১৮ই মে গওয়াংজু অভ্যুত্থানের সূত্রপাত চোন্নাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের গণতন্ত্রের দাবিতে বিক্ষোভ, সামরিক বাহিনীর brutal দমন।
১৯৮০ সালের ২১-২৭শে মে গওয়াংজু জনগণের স্বশাসন সামরিক বাহিনী শহর থেকে হটে যায়, নাগরিক কমিটি দ্বারা শহর পরিচালনা।
১৯৮০ সালের ২৭শে মে চূড়ান্ত সামরিক অভিযান সামরিক বাহিনী পুনরায় শহরে প্রবেশ করে এবং বিক্ষোভকারীদের brutal ভাবে দমন করে।
Advertisement

গওয়াংজু গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক গুরুত্ব

দক্ষিণ কোরিয়ার গণতন্ত্রের ভিত্তি

গওয়াংজু গণঅভ্যুত্থান দক্ষিণ কোরিয়ার গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসে এক টার্নিং পয়েন্ট। যদিও এই অভ্যুত্থান সামরিক বাহিনীর হাতে নির্মমভাবে দমন করা হয়েছিল, তবুও এটি কোরিয়ার জনগণের মধ্যে গণতন্ত্রের জন্য এক অদম্য আকাঙ্ক্ষা জাগিয়ে তুলেছিল। এই ঘটনা ভবিষ্যতের গণতান্ত্রিক আন্দোলনগুলোকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল এবং ১৯৮৭ সালের জুন গণতান্ত্রিক বিদ্রোহের পথ প্রশস্ত করেছিল, যার ফলস্বরূপ দক্ষিণ কোরিয়ায় সামরিক শাসনের অবসান হয় এবং একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়। আমার মনে হয়, এই ধরনের আত্মত্যাগ ছাড়া কোনো জাতির সত্যিকারের মুক্তি বা স্বাধীনতা সম্ভব নয়। গওয়াংজুর শহীদদের রক্ত বৃথা যায়নি, বরং তা গণতন্ত্রের বীজ বুনে দিয়েছিল।

বিশ্বব্যাপী অনুপ্রেরণা

গওয়াংজু অভ্যুত্থান শুধু দক্ষিণ কোরিয়াতেই নয়, পুরো পূর্ব এশিয়ার রাজনীতিতেও ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল। এটি বিভিন্ন দেশে সামরিক স্বৈরাচারদের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের উৎসাহিত করেছিল। তিয়ানানমেন স্কোয়ারের মতো পরবর্তী গণতান্ত্রিক আন্দোলনগুলোতেও এর প্রভাব দেখা যায়। এই ঘটনা বিশ্বকে দেখিয়েছিল যে, সাধারণ মানুষ একত্রিত হলে স্বৈরাচারী শাসকদের বিরুদ্ধে কতটা শক্তিশালী হতে পারে। আমি ব্যক্তিগতভাবে দেখেছি, কীভাবে ছোট ছোট আন্দোলন একদিন বিশাল রূপ নিতে পারে, আর গওয়াংজু তার এক জলজ্যান্ত উদাহরণ। এই ঘটনা আজও আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচারের জন্য সংগ্রাম কখনো শেষ হয় না।

গণতন্ত্রের বীজ ও আমাদের শিক্ষা

Advertisement

স্মরণ ও শ্রদ্ধাবোধ

আজও ১৮ই মে দক্ষিণ কোরিয়ায় “গণতন্ত্র দিবস” হিসেবে পালিত হয় এবং গওয়াংজু গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়। ১৯৯৭ সালে একটি জাতীয় সমাধিস্থান প্রতিষ্ঠা করা হয় এবং ২০০২ সালে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য বিশেষ সুবিধার আইন করা হয়। ২০১১ সালে, গওয়াংজু সিটি হলে সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা গণতান্ত্রিক অভ্যুত্থানকে ইউনেস্কো বিশ্ব স্মৃতি নিবন্ধনের অংশ হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয়। এই স্বীকৃতি প্রমাণ করে যে, গওয়াংজুর মানুষের আত্মত্যাগ কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আমার মনে হয়, এই ধরনের ঐতিহাসিক ঘটনাগুলো আমাদের প্রজন্মের জন্য একটি মূল্যবান শিক্ষা। আমাদের সবসময়ই সেই মানুষদের স্মরণ করা উচিত যারা গণতন্ত্রের জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন।

বর্তমান সমাজের জন্য বার্তা

গওয়াংজু গণঅভ্যুত্থান আমাদের বর্তমান সমাজের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বয়ে আনে। এটি শেখায় যে, স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র কোনো সহজে পাওয়া জিনিস নয়, এর জন্য নিরন্তর সংগ্রাম করতে হয়। জনগণের ঐক্যবদ্ধ শক্তিই পারে যেকোনো স্বৈরাচারী শাসনকে পরাজিত করতে। আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি, আমাদের প্রত্যেকেরই উচিত নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার সাহস রাখা। এই ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, যখন আমরা নীরব থাকি, তখন স্বৈরাচারীরা আরও শক্তিশালী হয়। তাই আমাদের সবসময়ই ন্যায়বিচারের পক্ষে দাঁড়াতে হবে এবং গণতন্ত্রের মূল্যবোধকে রক্ষা করতে হবে। এই ব্লগ পোস্টটি লেখার সময় আমার মনে হচ্ছিল, এই সাহসী মানুষদের গল্প যত বেশি মানুষের কাছে পৌঁছাবে, ততই আমাদের বিশ্বটা আরও সুন্দর হবে।

글을মাচি며

বন্ধুরা, গওয়াংজু গণঅভ্যুত্থানের এই সাহসী এবং মর্মস্পর্শী গল্পটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, গণতন্ত্রের পথে হাঁটা কতটা কঠিন, আর স্বাধীনতার মূল্য আসলে কতটা অপরিসীম। নিজের অভিজ্ঞতায় দেখেছি, যখন সাধারণ মানুষ একতাবদ্ধ হয়, তখন তারা যেকোনো স্বৈরাচারী শক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে পারে। এই ঐতিহাসিক ঘটনা শুধু দক্ষিণ কোরিয়ার ইতিহাসে নয়, বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্রকামী মানুষের জন্য এক অফুরন্ত অনুপ্রেরণার উৎস। আমাদের উচিত এই আত্মত্যাগের ইতিহাসকে সযত্নে মনে রাখা এবং নতুন প্রজন্মের কাছে এর বার্তা পৌঁছে দেওয়া, যাতে তারা নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে ভয় না পায়। কারণ, যখন আমরা ইতিহাস থেকে শিখি, তখনই ভবিষ্যতের পথ আরও মসৃণ হয়।

알া দুলেল সেলো ইলো ইলো ইলো

১. গওয়াংজু গণঅভ্যুত্থান ১৯৮০ সালের ১৮ই মে শুরু হয়েছিল, যখন সামরিক স্বৈরাচারী চুন দু-হোয়ানের সরকার গণতন্ত্রের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর brutal নির্যাতন শুরু করে।

২. এটি দক্ষিণ কোরিয়ার গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসে এক অসাধারণ ঘটনা, যেখানে নিরস্ত্র সাধারণ মানুষ সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছিল নিজেদের রক্ষা করার জন্য।

৩. এই অভ্যুত্থানটি পরবর্তীতে দক্ষিণ কোরিয়ায় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পথ প্রশস্ত করেছিল এবং ১৯৮৭ সালের জুনের গণতান্ত্রিক বিদ্রোহকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল।

৪. ২০১১ সালে, গওয়াংজু গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক দলিলপত্র ইউনেস্কো বিশ্ব স্মৃতি নিবন্ধনের (UNESCO Memory of the World Register) অংশ হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে, যা এর বৈশ্বিক গুরুত্ব প্রমাণ করে।

৫. এই ঘটনাটি আমাদের শেখায় যে, জনগণের সম্মিলিত শক্তি কতটা প্রবল হতে পারে এবং গণতন্ত্রের জন্য লড়াইয়ে আত্মত্যাগ ও ঐক্যবদ্ধতার কোনো বিকল্প নেই।

Advertisement

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো

গওয়াংজু গণঅভ্যুত্থান আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে, গণতন্ত্রের জন্য মানুষের আকাঙ্ক্ষা কতটা প্রবল হতে পারে এবং এর জন্য কী ধরনের আত্মত্যাগ করতে হতে পারে। এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, সাধারণ মানুষ যখন ঐক্যবদ্ধ হয়, তখন তারা স্বৈরাচারী শাসনকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে। এটি দক্ষিণ কোরিয়ার আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার এক মূল ভিত্তি স্থাপন করেছিল। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় থেকে তাৎক্ষণিক সমর্থন না পেলেও, এই ঘটনা বিশ্বব্যাপী গণতন্ত্রের আন্দোলনকারীদের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। গওয়াংজুর মানুষের এই সংগ্রাম কেবল ইতিহাস নয়, বরং বর্তমান ও ভবিষ্যতের জন্য একটি উজ্জ্বল বাতিঘর, যা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচার কখনোই সহজে অর্জিত হয় না, বরং এর জন্য প্রয়োজন নিরন্তর সংগ্রাম এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টা। নিজেদের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, এই ধরনের গল্পগুলো আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, প্রতিটি নাগরিকের একটি কণ্ঠ আছে, এবং সেই কণ্ঠকে দমিয়ে রাখার চেষ্টা হলে তা আরও জোরালো হয়ে ফিরে আসে।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ) 📖

প্র: গওয়াংজু গণঅভ্যুত্থান ঠিক কখন এবং কেন হয়েছিল?

উ: গওয়াংজু গণঅভ্যুত্থান, যাকে ১৮ই মে গণতান্ত্রিক অভ্যুত্থান বা গওয়াংজু গণতন্ত্রীকরণ আন্দোলনও বলা হয়, ১৯৮০ সালের ১৮ থেকে ২৭ মে দক্ষিণ কোরিয়ার গওয়াংজু শহরে ঘটেছিল। এর মূল কারণ ছিল ১৯৭৯ সালের ২৬শে অক্টোবর রাষ্ট্রপতি পার্ক চুং-হি-এর হত্যাকাণ্ডের পর দক্ষিণ কোরিয়ার রাজনীতিতে সৃষ্ট অস্থিতিশীলতা। এরপর জেনারেল চুন দু-হোয়ান ১৯৭৯ সালের ১২ই ডিসেম্বর একটি সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেন এবং সারা দেশে সামরিক শাসন জারি করেন। গণতন্ত্রপন্থী রাজনৈতিক নেতা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতাদের ওপর দমন-পীড়ন শুরু হয়। বিশেষ করে গওয়াংজু ছিল আঞ্চলিক বৈষম্যের শিকার এবং ঐতিহ্যগতভাবে প্রতিবাদের কেন্দ্রস্থল। পার্কের শাসনামলে দমিত গণতান্ত্রিক আন্দোলনগুলো ১৯৮০ সালের মার্চ মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন সেমিস্টার শুরুর সাথে সাথে আবার প্রাণ ফিরে পায়। শিক্ষার্থীরা সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, সামরিক শাসনের অবসান এবং অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করে। ১৭ই মে, চুন দু-হোয়ান সরকার সামরিক শাসন আরও কঠোর করে এবং অনেক গণতন্ত্রপন্থী নেতাকে আটক করে। এর প্রতিবাদে ১৮ই মে গওয়াংজুর চোন্নাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যখন বিক্ষোভ করে, তখন তাদের ওপর সরকারি বাহিনী গুলি চালায়। এই নির্মম ঘটনায় সাধারণ জনতা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং স্থানীয় অস্ত্রাগার ও পুলিশ স্টেশন লুট করে অস্ত্র হাতে তুলে নেয়, যা একটি পূর্ণাঙ্গ গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। আমি নিজে যখন এই ঘটনাগুলোর সময়কাল নিয়ে ভাবি, তখন মনে হয়, সাধারণ মানুষের ওপর যখন অন্যায় চাপিয়ে দেওয়া হয়, তখন প্রতিবাদ করা ছাড়া তাদের আর কোনো উপায় থাকে না। এই ঘটনাগুলো দেখলেই বোঝা যায় যে, স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে জনগণের প্রতিরোধ কত শক্তিশালী হতে পারে!

প্র: গওয়াংজু গণঅভ্যুত্থানের মূল ঘটনাপ্রবাহ কেমন ছিল এবং এর পরিণতি কী হয়েছিল?

উ: গওয়াংজু গণঅভ্যুত্থান প্রায় দশ দিন ধরে চলেছিল, যা ছিল সামরিক স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের এক অসম যুদ্ধ। ১৮ই মে চোন্নাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর সেনাবাহিনীর গুলির মাধ্যমে এর সূত্রপাত হয়। সৈন্যরা নির্মমভাবে বিক্ষোভকারীদের ওপর নির্যাতন চালায়। এর প্রতিক্রিয়ায়, গওয়াংজুর সাধারণ মানুষ, যারা সামরিক বাহিনীর এই নৃশংসতা দেখে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে, তারা স্থানীয় অস্ত্রাগার থেকে অস্ত্র সংগ্রহ করে নিজেদের একটি সশস্ত্র মিলিশিয়া বাহিনী গড়ে তোলে। ২১শে মে পর্যন্ত বিদ্রোহীরা শহরের বেশিরভাগ এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় এবং সামরিক বাহিনী শহর থেকে পিছু হটতে বাধ্য হয়। এরপর একটি “নিষ্পত্তি সমিতি” গঠিত হয়, যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করে। কিন্তু ২৭শে মে ভোরে চুন দু-হোয়ান সরকার ব্যাপক সামরিক শক্তি নিয়ে, ট্যাংক, সাঁজোয়া যান এবং হেলিকপ্টার ব্যবহার করে শহর পুনর্দখলের জন্য “শেষ অভিযান” চালায়। প্রায় দুই ঘণ্টার নির্বিচার গুলিবর্ষণ ও সংঘর্ষের পর, সামরিক বাহিনী শহরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় এবং এই অভ্যুত্থানের অবসান ঘটে। এই ঘটনায় আনুমানিক ১৬৫ জন নিহত, ৭৬ জন নিখোঁজ এবং ৩,৫১৫ জন আহত হন, যদিও কিছু হিসাবে মৃতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। আমি যখন এই ঘটনাগুলোর বিস্তারিত পড়ি, তখন আমার মনটা ভারাক্রান্ত হয়ে যায়। নিজের দেশের স্বাধীনতা আর অধিকারের জন্য এত মানুষের আত্মত্যাগ সত্যিই ভাবার মতো। এই ঘটনাটা আমাদের এটাই মনে করিয়ে দেয় যে, যখন রাষ্ট্রশক্তি চরম দমন-পীড়ন চালায়, তখন নিরস্ত্র জনগণের প্রতিরোধ কতখানি কঠিন হতে পারে। কিন্তু এই সংগ্রামই পরবর্তীতে গণতন্ত্রের বীজ বুনে দেয়।

প্র: গওয়াংজু অভ্যুত্থান দক্ষিণ কোরিয়ার গণতান্ত্রিক আন্দোলনে কী ধরনের প্রভাব ফেলেছিল?

উ: গওয়াংজু গণঅভ্যুত্থান দক্ষিণ কোরিয়ার গণতান্ত্রিক ইতিহাসে এক গভীর এবং দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলেছিল। শুরুতে চুন দু-হোয়ান সরকার এই ঘটনাকে “কমিউনিস্টদের বিদ্রোহ” বলে প্রচার করলেও, জনগণের স্মৃতি থেকে এই সত্য মুছে ফেলা যায়নি। এই অভ্যুত্থানটি পরবর্তী বছরগুলোতে দক্ষিণ কোরিয়ায় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত ও উৎসাহিত করে। এটি সামরিক স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে জনগণের প্রতিরোধের প্রতীক হয়ে ওঠে। এই রক্তাক্ত ঘটনাটি মানুষকে বুঝতে সাহায্য করে যে, প্রকৃত গণতন্ত্র অর্জনের জন্য আরও সংগ্রাম প্রয়োজন। ১৯৮৭ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় একটি নতুন সংবিধান সংশোধিত হয়, যা জনগণের সরাসরি ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ব্যবস্থা চালু করে এবং দেশের গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার ভিত্তি মজবুত করে সামরিক স্বৈরশাসনের অবসান ঘটায়। গওয়াংজু অভ্যুত্থানে শহীদ ও অংশগ্রহণকারীদের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের জন্য ১৯৯৭ সালে একটি জাতীয় সমাধিস্থান এবং ১৮ই মে-কে শোক দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ২০১১ সালে, এই গণতান্ত্রিক অভ্যুত্থানকে ইউনেস্কো বিশ্ব স্মৃতি নিবন্ধনের অংশ হিসেবে ঘোষণা করা হয়, যা এর আন্তর্জাতিক গুরুত্বকে তুলে ধরে। আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, এই ধরনের ঘটনাগুলো প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে গণতন্ত্রের মূল্যবোধ ও স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা জাগিয়ে তোলে। যখন আমরা দেখি, এত বছর পরেও গওয়াংজুর ঘটনা কীভাবে মানুষকে অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে, তখন সত্যিই মনে হয়, মানুষের আত্মত্যাগ কখনো বৃথা যায় না। এই ঘটনা শুধু দক্ষিণ কোরিয়ার নয়, সারা বিশ্বের গণতন্ত্রকামী মানুষের জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।